MD. SAZZAD HOSSAIN

MD. SAZZAD HOSSAIN
I'm a professional freelancer working in the marketplace for a long time

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর

1. পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কাকে বলে?
যে লাইসেন্স দিয়ে একজন চালক বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে কোনো মোটরযান চালিয়ে থাকে, তাকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বলে।
2. পিএসভি(P.S.V.) লাইসেন্স কাকে বলে?
পিএসভি অর্থ পাবলিক সার্ভিস ভেহিকেল(Public Service Vehicle)। ভাড়ায় চালিত যাত্রীবাহী মোটরযান চালানোর জন্য প্রত্যেক চালককে তার লাইসেন্সের অতিরিক্ত হিসেবে পিএসভি লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়।
3. পাবলিক সার্ভিস ভেহিকেল(Public Service Vehicle) কাকে বলে?
যে মোটরযান ভাড়ার বিনিময়ে যাত্রী বহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাকে পাবলিক সার্ভিস ভেহিকেল বলে। ভাড়ায় চালিত বাস-মিনিবাস, হিউম্যানহলার(লেগুনা), ট্যাক্সিক্যাব ইত্যাদি পাবলিক সার্ভিস ভেহিকেলের অন্তর্ভুক্ত।
4. বাসের আসন সংখ্যা কত?
চালকসহ সর্বনিম্ন ৩২ জন।
5. মিনিবাসের আসন সংখ্যা কত?
চালকসহ সর্বনিম্ন ১৬ জন এবং সর্বোচ্চ ৩১ জন।
6. একজন পেশাদার চালক দৈনিক কত ঘণ্টা গাড়ি চালাবে বা মোটরযানে কর্মঘন্টা কত?
একনাগাড়ে ৫ ঘণ্টার বেশি নয়। অতঃপর আধাঘণ্টা বিশ্রাম বা বিরতি নিয়ে আবার ৩ ঘণ্টা অর্থাৎ ১ দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি নয়। তবে ১ সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি নয়।
7. ইঞ্জিন কাকে বলে?
ইঞ্জিন হচ্ছে এক ধরনের যন্ত্র যেখানে জ্বালানি বা ফ্লুয়েলকে পুড়িয়ে রাসায়নিক শক্তিকে প্রথমে তাপশক্তিতে এবং তাপশক্তিকে পরে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়।
8. ইঞ্জিনের প্রধান প্রধান কয়েকটি যন্ত্রাংশের নাম কি?
সিলিন্ডারহেড(Cylinder Head)
সিলিন্ডারব্লক(Cylinder Block)
পিস্টন(Piston)
ক্রাংকশ্যাফট(Crankshaft)
ক্যাম ও ক্যাম শ্যাফট(Cam & Cam Shaft)
কানেকটিং রড(Connecting Rod)
বিয়ারিং(Bearing)
ফ্লাই হুইল(Flywheel)
অয়েলপ্যান(Oil Pan) ইত্যাদি।
9. পেট্রোল ইঞ্জিন ও ডিজেল ইঞ্জিনের মধ্যে পার্থক্য কি?
পেট্রোল ইঞ্জিন
ডিজেল ইঞ্জিন
পেট্রোল ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল ব্যবহার করা হয়
ডিজেল ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হয়
পেট্রোল ইঞ্জিনে স্পার্ক করে ইগনিশন করা হয়
ডিজেল ইঞ্জিনে কমপ্রেশন করে ইগনিশন করা হয়
পেট্রোল ইঞ্জিনে কার্বুরেটর থাকে
ডিজেল ইঞ্জিনে কার্বুরেটরের স্থলে ইনজেক্টর থাকে
পেট্রোল ইঞ্জিন অটো সাইকেলে কাজ করে
ডিজেল ইঞ্জিন ডিজেল সাইকেলে কাজ করে

10. কি কি লক্ষণ দেখা দিলে ইঞ্জিন ওভার হলিং করার প্রয়োজন হয়?
ইঞ্জিনে জ্বালানি এবং লুবঅয়েল(মবিল) বেশি খরচ হলে।
ইঞ্জিন হতে অত্যধিক কালো ধোঁয়া বের হলে।
বোঝা বহন করার ক্ষমতা কমে গেলে।
ফার্স্ট গিয়ারে উঁচু রাস্তায় উঠবার সময় ইঞ্জিন গাড়িকে টানতে না পারলে।
11. ইঞ্জিন কুলিঙ্গ সিস্টেমের কাজ বা উদ্দেশ্য কি?
ইঞ্জিনের অতিরিক্ত তাপমাত্রা হ্রাস করে ইঞ্জিনকে কার্যকরী তাপমাত্রায় রাখাই কুলিঙ্গ সিস্টেমের উদ্দেশ্য বা কাজ।
12. রেডিয়েটরের কাজ কি?
রেডিয়েটরের কাজ পানি ঠাণ্ডা করা। রেডিয়েটর হতে ঠাণ্ডা পানি পাম্পের সাহায্যে ওয়াটার জ্যাকেটের মাধ্যমে ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে ইঞ্জিনকে ঠাণ্ডা করে এবং গরম অবস্থায় পুনরায় রেডিয়েটরে ফিরে আসে। রেডিয়েটরে এই গরম পানি ঠাণ্ডা হয়ে পুনরায় ইঞ্জিনে যায়।
13. কুলিঙ্গ ফ্যানের কাজ কি?
রেডিয়েটরের ভেতর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করা এবং পানিকে ঠাণ্ডা করা।
14. এয়ার কুলিং সিস্টেমে ইঞ্জিন কিভাবে ঠাণ্ডা হয়?
ইঞ্জিন সিলিন্ডার ও হেডের চতুর্দিকে বেশ কিছু পাতলা লোহার পাত(ফিন) থাকে। বাতাসের সংস্পর্শে এই পাতলা লোহার পাতসমূহ ঠাণ্ডা হয়ে ইঞ্জিনকে ঠাণ্ডা রাখে। যেমন: মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা ইত্যাদি গাড়িতে এয়ার কুলিং সিস্টেম দেখা যায়।
15. ওয়াটার কুলিং সিস্টেমে কি ধরনের পানি ব্যবহার করা উচিৎ?
ডিস্টিল্ড ওয়াটারের ন্যায় পরিষ্কার পানি, যেমন-পরিষ্কার পুকুর, নদী ও বৃষ্টির পানি ব্যবহার অরা উচিৎ। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ও লৌহ মিশ্রিত পানি(কোনো কোনো টিউবওয়েলের পানি) ব্যবহার করা উচিৎ নয়।
16. ফ্যানবেল্ট কোথায় থাকে?
ইঞ্জিনের পুলি, ফ্যান পুলি ও ডায়নামো পুলির ওপরে পরানো থাকে।
17. একটি ইঞ্জিন অত্যধিক গরম অবস্থায় চলছে তা কিভাবে বুঝা যায়?
ড্যাশবোর্ডে টেম্পারেচার মিটারের কাটা লাল দাগে চলে যাবে
ইঞ্জিনে খট খট শব্দ(নকিং) হবে
পানি বেশি বাষ্পায়িত হয়ে ওভারফ্লো পাইপ দিয়ে বের হতে থাকবে
ক্রমান্বয়ে ইঞ্জিনের শক্তি কমতে থাকবে
18. ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে করণীয় কি এবং এ অবস্থায় গাড়ি চালালে কি অসুবিধা হবে?
প্রথমে ইঞ্জিন বন্ধ করে সুবিধামত স্থানে গাড়ি পার্ক করতে হবে এবং বনেট খুলে ইঞ্জিন ঠাণ্ডা হতে দিতে হবে। তারপর ইঞ্জিন গরম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে যে কোনো মুহূর্তে পিস্টন ও বেয়ারিং গলে গিয়ে ইঞ্জিন জ্যাম বা সিজড হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ইঞ্জিন পুনরায় ওভারহলিং করতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
19. এয়ারক্লিনারের কাজ কি?
বাতাসে যে সমস্ত ধূলিকণা থাকে তা পরিষ্কার করে বিশুদ্ধ বাতাস ইঞ্জিনে সরবরাহ করা। পরিষ্কার বাতাস কার্বুরেটরের মধ্যে পরবেশ না করলে ধূলিকণা পেট্রোলের সাথে মিশ্রিত হয়ে ইঞ্জিনের সিলিন্ডার, পিস্টন এবং পিস্টন রিঙয়ের অতি দ্রুত ক্ষয় সাধন করে।
20. কার্বুরেটরের অবস্থান কোথায় এবং এর কাজ কি?
কার্বুরেটরের অবস্থান ইঞ্জিনের ইনটেক ম্যানিফোন্ডের ওপরে ও এয়ারক্লিনারের নিচে। ফুয়েল ও বাতাসকে নির্দিষ্ট অপুতাপে মিশ্রিত করে ইঞ্জিনে সরবরাহ করাই এর কাজ।
21. ডিস্ট্রিবিউটরের কাজ কি?
প্রত্যেকটি স্পার্ক প্লাগে হাইভোল্টজ কারেন্ট পৌঁছে দেওয়া।
22. কনডেনসারের কাজ কি?
ডিস্ট্রিবিউটরের কনট্যাক্টব্রেকার পয়েন্টকে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা।
23. স্পার্ক প্লাগ কোথায় থাকে?
পেট্রোল ইঞ্জিনের সিলিন্ডারহেডে।
24. এয়ারলক ও ভেপারলক এর অর্থ কি?
ফুয়েল লাইনে বাতাস প্রবেশের কারণে ফুয়েল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে এয়ারলক বলে। ফুয়েল লাইন অত্যধিক তাপের সংস্পর্শে আসলে লাইনের ভেতর ভেপার বা বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্পের চাপে লাইনের ভেতর ফুয়েল সরবরাহ বন্ধ হওয়াকেই ভেপারলক বলে।
25. কোন কোন ত্রুটির কারণে সাধারণত ইঞ্জিন স্টার্ট হয় না?
জ্বালানি (পেট্রোল/ডিজেল/সিএনজি) না থাকলে
ব্যাটারিতে চার্জ না থাকলে বা দুর্বল হলে
সেলফস্টার্টার ঠিকমত কাজ না করলে
কার্বুরেটর ঠিকমত কাজ না করলে
ইগনিশন সিস্টেম ঠিকমত কাজ না করলে
ডিজেল ইঞ্জিনের জ্বালানি লাইনে বাতাস ঢুকে গেলে
26. কি কি কারণে ইঞ্জিন চালু অবস্থায় বন্ধ হতে পারে?
জ্বালানি (পেট্রোল/ডিজেল/সিএনজি) শেষ হয়ে গেলে বা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে
ডিজেল ইঞ্জিনের জ্বালানি লাইনে বাতাস ঢুকে গেলে
স্পার্ক প্লাগে অতিরিক্ত তেল(মবিল) বা কার্বন কমা হলে
কার্বুরেটরে ফ্লাডিং অর্থাৎ কার্বুরেটরে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ হলে
এক্সিলারেটর প্রয়োজনমত না চেপে ক্লাচ প্যাডেল ছেড়ে দিলে
অতিরিক্ত বোঝা বহন করলে
27. ইগনিশন সিস্টেম ঠিক থাকা সত্ত্বেও একটি ঠাণ্ডা ইঞ্জিন স্টার্ট না হলে কি করতে হবে?
মিকচার আরও রিচ করতে হবে (অ্যাক্সিলারেটর দাবায়ে কার্বুরেটর ফ্লাডিং দ্বারা অথবা এয়ার ইনটেক সম্পূর্ণ বন্ধ করে)।
28. ইগনিশন সিস্টেম ঠিক থাকা সত্ত্বেও একটি ইঞ্জিন গরম অবস্থায় স্টার্ট না হলে কি করতে হবে?
মিকচার খুব বেশি রিচ হলে এমনটি হয়। ইগনিশন সুইচ অফ করে এবং থ্রটল্ভালভ সম্পূর্ণ খুলে ইঙ্গিঙ্কে কয়েকবার ঘুরাতে হবে। তারপর থ্রটলভালভ বন্ধ করে ইননিশন সুইচ অন্য করতে হবে।
29. ডিজেল ইঞ্জিনে গভর্নরের কাজ কি?
গভর্নর ডিজেল ইঞ্জিনের ফুয়েল(ডিজেল) সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে ইঞ্জিনের স্পিড বা গতি নিয়ন্ত্রণ করে।

Post a Comment

0 Comments