MD. SAZZAD HOSSAIN

MD. SAZZAD HOSSAIN
I'm a professional freelancer working in the marketplace for a long time

তৎসম|অর্ধতৎসম |তদ্ভব |দেশি|শব্দভাণ্ডার

শব্দের মধ্যে যা যা থাকলে সেগুলো নিঃসন্দেহে তৎসম শব্দ হবে

১। ঈ, ঊ, ঋ, ণ ও ষ এবং এদের সংক্ষিপ্ত রূপ (ী, , ) থাকলে তৎসম শব্দ হবে। তবে ষ থাকলেও তৎসম হবে না এমন কয়েকটি শব্দও রয়েছে। যেমন: বোষ্টম, পোষা।
২। শব্দের শুরুতে তৎসম উপসর্গ (প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, উৎ, অধি, পরি, প্রতি, উপ, অভি, অতি) যুক্ত থাকলে সেগুলো তৎসম শব্দ হবে।
৩। ক্ত্র, ক্ম, ক্ষ, ক্ষ্ণ, ক্ষ্য, ক্ষ্ম, ক্ষ্ম্য, গ্ধ, গ্ন্য, গ্ম, ঘ্ন, ঙ্ক্ষ, ঙ্ম, চ্ছ্ব, চ্ছ্র, জ্ঝ, জ্ঞ, ঞ্ছ, ঢ্র, ত্ত্ব, ত্ম্য, ত্র্য, দ্ব্য, দ্ম, ধ্ন, ধ্ম, ন্ত্য, ন্ত্ব, ন্ত্র, ন্ত্র্য, ন্দ্ব, ন্ধ্য, ন্ধ্র, ন্ন্য, ল্ম, শ্ছ, শ্ম, ষ্ক্র, ষ্ট্য, ষ্ট্র, ষ্ব, ষ্ম, স্ত্য, স্থ্য, হ্ন্য, হ্ম, হ্ল ইত্যাদি যুক্তবর্ণ যুক্ত থাকলে সেগুলো তৎসম শব্দ।
৪। শব্দের মধ্যে বিসর্গ (ঃ) থাকলে তৎসম শব্দ হবে।
৫। যেসব শব্দের শেষে গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ, আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি যুক্ত থাকে, সেগুলো তৎসম শব্দ হয়।
৬। শব্দের শেষে তা, ত্ব, তর, তম, বান, মান, এয়, র্য, তব্য, অনীয় যুক্ত থাকলে সেগুলো তৎসম শব্দ হবে। যেমন: শত্রুতা, বন্ধুত্ব, বৃহত্তর, দীর্ঘতম, গুণবান, বুদ্ধিমান, ধৈর্য, কর্তব্য, করণীয়।
৭। বিসর্গ সন্ধি দ্বারা তৈরি শব্দ; উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয় সমাস এবং অব্যয়ীভাব ও প্রাদি সমাস দ্বারা তৈরি শব্দগুলো সাধারণত তৎসম হয়।

[বি.দ্র: ওপরে বর্ণিত সূত্র দিয়ে অধিকাংশ তৎসম শব্দ খুঁজে বের করা সম্ভব। তবে সকল
তৎসম শব্দ চিনতে হলে আরও কিছুটা বেশি চর্চার প্রয়োজন হবে।]


শব্দভাণ্ডার

তৎসম শব্দ :

যেসব শব্দ  সংস্কৃত থেকে অপরিবর্তিতভাবে বাংলায় এসেছে সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলা হয়। 
তৎ =সংস্কৃত, সম=সমান অর্থাৎ  তৎসম  কথাটির অর্থ সংস্কৃতের সমান।

যেমন – জল, বায়ু, কৃষ্ণ, সূর্য, মিত্র, জীবন, মৃত্যু, বৃক্ষ, লতা, নারী, পুরুষ ইত্যাদি।


তৎসম শব্দ চেনার উপায়


১। মূর্ধন্য(ণ)যুক্ত সকল শব্দই তৎসম শব্দ ।
যেমন- কর্ণ ,স্বর্ণ ,কারণ ,মণি, বণিক বিণা ইত্যাদি

২। বিসর্গ যুক্ত শব্দ এবং বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দগুলি তৎসম শব্দ।
যেমন- দুঃখ, প্রাতঃকাল,  দুঃশাসন, দুঃসাহস,  মনঃকষ্ট, মনঃক্ষুন্ন,  শিরঃপীড়া, পরিষ্কার, আবিষ্কার, তিরস্কার, পুরস্কার ইত্যাদি।

৩। ঈ, ঊ,ঋ -এই তিনটি বর্ণের কার চিহ্ন যুক্ত সব 


শব্দই তৎসম শব্দ।
যেমন- ঈর্ষা, ঊষা ,ঋণ,জয়ী,পূর্ণ,তৃণ ইত্যাদি।

৪। যেসব শব্দের পূর্বে সংস্কৃত ২০টি উপসর্গ  যুক্ত থাকবে সেগুলি
যেমন- প্র - প্রকার,প্রচার,প্রমাণ
          পরা- পরাজয় , পরাক্রম
          অপ-অপমান
          সম -সংবাদ

৫। উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস সাধিত শব্দগুলো তৎসম।

৬। মহাকাশ ও হিন্দু ধর্ম সংক্রান্ত শব্দগুলি তৎসম।

৭। ক্ষ/ক্ষ্ম-যুক্ত সকল শব্দ তৎসম।

৮।  ৎ -যুক্ত শব্দ তৎসম

৯। দশদিক সম্পর্কিত সকল শব্দ তৎসম।

১০। বহুবচন সম্পর্কিত শব্দ তৎসম। (যেমন- বৃন্দ, গণ,বর্গ,মণ্ডলী, রাজি, পুঞ্জ)


অর্ধতৎসম শব্দ :

যেসব সংস্কৃত শব্দ বাংলায় এসে বাঙালির উচ্চারণে কিছুটা পরিবর্তন ও বিকৃতি লাভ করেছে, সেগুলোকে অর্ধতৎসম বা ভগ্নতৎসম শব্দ বলা হয়।
যেমন –
অগ্রহায়ণ > অঘ্রান
অস্ত্র> অস্তর
ইচ্ছা> ইচ্ছে
আধিক্যতা> আদিখ্যেতা
কীর্তন> কেত্তন
কৃষ্ণ > কেষ্ট
কবিরাজ >কোবরেজ
ক্ষুধা > খিদে
গৃহিনী >গিন্নি
গ্রাম >গেরাম
গৃহস্থ > গেরস্ত
ঘৃণা >ঘেন্না
চিত্র >চিত্তির
জ্যোৎস্না > জোছনা
তন্ত্র >তন্তর
পথ্য >পথ্যি
পুত্র >পুত্তুর
বৃহস্পতি> বেস্পতি
ভাদ্র >ভাদ্দর
মন্ত্র >মন্তর
মিত্র >মিত্তির
মহোৎসব >মোচ্ছব
যজ্ঞ>যজ্ঞি
রৌদ্র>রোদ্দুর
শত্রু>শত্তুর
শ্লোক >শোলোক
সত্য >সত্যি
সূর্য >সূয্যি
স্বস্তি >সোয়াস্তি
স্বাদ >সোয়াদ
শ্রী >ছিরি
বিষ্ণু>বিষ্টু
বিশ্রী >বিচ্ছিরি
মিথ্যা >মিছা
প্রণাম >পেন্নাম
রাত্রি > রাত্তির
রাজপুত্র >রাজপুত্তুর
নিমন্ত্রণ > নেমন্তন্ন
নিশ্চিন্ত >নিশ্চিন্দি


তদ্ভব শব্দ :

যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি বাংলায় আসেনি, মধ্যবর্তী পর্বে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তন লাভ করে বাংলায় এসেছে তাদের তদ্ভব শব্দ বলা হয়। 
তৎ = সংস্কৃত, ভব=উৎপন্ন অর্থাৎ তদ্ভব কথাটির অর্থ সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন।

বাংলা ভাষাভান্ডারের অর্ধাংশ(৫১%) তদ্ভব শব্দ। তদ্ভব শব্দই বাংলা ভাষার প্রাণ ।

উদাহরণ-
সংস্কৃত        প্রাকৃত         বাংলা
ইন্দ্রাগার >  ইন্দাআর >  ইন্দারা
কৃষ্ণ   > কন্হ > কানু /কানাই
ধর্ম > ধম্ম > ধাম 
মৎস্য > মচ্ছ > মাছ
কার্য > কজ্জ > কাজ
গাত্র > গাঅ > গা 
হস্ত  > হত্থ > হাত
চন্দ্র >চন্দ>চাঁদ
ভক্ত >ভত্ত >ভাত
কাষ্ঠ >কট্ ঠ>কাঠ
অদ্য >অজ্জ >আজ
দুগ্ধ >দুধ্ধ>দুধ
উষ্ট্র >উট্ট>উট
বঙ্ক >বংক >বাঁক
ঘাত >ঘাঅ >ঘা
বধূ >বহু>বউ
রাধিকা >রাহিআ >রাই
ঘটিকা >ঘড়িআ >ঘড়ি
স্বর্ণ >সোন্ন >সোনা
মাতৃকা>মাইআ >মেয়ে
তিক্ত >তিতো >তেতো
সন্তার >সংতার >সাঁতার

সংস্কৃত >বাংলা

অঙ্ক > আঁক
অষ্ট >আট
অপর > আর
উচ্চ >উঁচু/উঁচা
উষ্ণাপণ >উনুন/উনান
কজ্জল >কাজল
কর্মকার >কামার
কুম্ভকার >কুমার
ক্ষেত্র >খেত
গৃহ >ঘর
গোপাল >গোয়ালা
চক্ষু >চোখ
চক্র >চাকা
চর্মকার >চামার
ছত্র >ছাতা
জামাতৃ >জামাই
দুহিতা >ঝি
তাম্র >তামা
তৈল >তেল
স্তম্ভ >থাম
দধি >দই
দীর্ঘিকা >দিঘি
নৃত্য >নাচ
পত্র >পাতা
পক্ষী>পাখি
পুস্তিকা >পুথি
পুষ্কর >পুকুর
ফুল্ল >ফুল
বৈবাহিক >বেয়াই
ভাতৃ>ভাই
ভাতৃজায়া >ভাজ
ভূমি >ভুঁই
মাতৃ  >মা
মৎস্য >মাছ
মক্ষিকা >মাছি
মামক >মামা
শঙ্খ >শাঁখ
ষণ্ড >ষাঁড়
সপ্ত >সাত
সামন্তপাল >সাঁওতাল
হট্ট >হাট
হস্তী >হাতি
ভদ্রক >ভালো
মাতা>মা
কন্টক>কাঁটা
ভগিনী >বোন
দ্বিপ্রহর >দুপুর
দীপশলাকা >দিয়াশলাই
চর্মচটিকা >চামচিকা
অলক্ত>আলতা
অশীতি >আশি
অষ্টপ্রহর >আটপৌরে
অষ্টাদশ >আঠারো
উপাধ্যায় >ওঝা
একাদশ >এগারো
গঙ্গা >গাঙ
গোধূম >গম
গর্দভ >গাধা
জলৌকা >জোঁক
তন্ত্র >তাঁত
বন্যা >বান
হরিদ্রা>হলুদ



দেশি শব্দ :

বঙ্গদেশের প্রাচীনতম অধিবাসী কোল, ভিল প্রভৃতি অনার্যজাতির ভাষা থেকে যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে সেগুলোকে দেশি শব্দ বলে।
যেমনঃ
অঢেল, কচি, কলা, কাতলা, কুলো/কুলা, কুকুর, খড়, খেয়া, খোকা, খুকি,  খাঁজ, গাদা, ঘাড়, ঘোড়া, চাউল/চাল, চিংড়ি, ছানা, ঝাঁটা, ঝিঙে, ঝড়, ঝাড়, ঝিলিক, ডাক, ডোবা, ডাগর, ডাব, ডিঙি, ঢেঁকি, ঢেউ, ঢিল, ঢোল, তেঁতুল, মুড়ি , থোড়, পাল, পালটা,  পাঁঠা, বাদুড়,  ভিড়,  ফিঙে,  দোয়েল, প্রভৃতি ।


বিদেশী শব্দ মনে রাখার সহজ কৌশল

১. পর্তুগীজ শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

গীর্জার পাদ্রি গুদামের বড় কামারার আলমারীর চাবি খুলে বালতি ভর্তি পাউরুটি, আনারস আতা, আচার, কাবাব এবং কেরাণিকে দিয়ে ইস্পাতের অন্য বাসনে আলকাতরা,আলপিন, ফিতা নিয়ে বেরিয়ে এসে সাবান মার্কা তোয়ালে পেতে বসলেন।

এখানেঃ গীর্জা, কামরা, পাদ্রি, গুদাম, আলমারী, চাবি, বালতি, পাউরুটি, আনারস, আতা, আচার, কাবাব, কেরানী, ইস্পাত, বাসন, আলকাতরা, আলপিন, ফিতা, সাবান, মার্কা এবং তোয়ালে পর্তুগীজ শব্দ।

২. ফরাসি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

বাংলা শব্দ ভান্ডারে বহু ফরাসি শব্দ আছে যা এই উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন এবং তাদের ভাষা থেকে আমাদের বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। নিচের চমৎকার ছড়াটির মাধ্যমে ফরাসি শব্দ মনে রাখা যায়।

ফরাসিরা কার্তুজ কাটে

কুপন নিয়ে যায় রেস্তোরাঁয়

সেমিজ ঘরে পাতি পাতি

ডিপোতে সব বাস রয়।

কার্তুজ কুপন ডিপো রেস্তোরাঁ আঁশ ওলন্দাজ শেমিজ পাতি-এগুলো ফরাসি শব্দ।

৩. ওলন্দাজ শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

বহু শব্দ ওলন্দাজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। নিচের ছড়াটির মাধ্যমে ওলন্দাজ শব্দ মনে রাখা যেতে পারে।

ওলন্দাজদের তাস খেলতে

লাগে ইস্কাপন

আরো লাগে টেক্কা তুরুপ

হরতন ও রুইতন।

এখানেঃ ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, হরতন ও রুইতন।

৪. তুর্কি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

সুলতান দারোগার বাবা আলখেল্লা পরে বেগম রহিমা খাতুন ও চাকরকে সাথে নিয়ে শিকারে গেলেন। তার বন্দুকের গুলিতে চাকুওয়ালা বাবুর্চি এবং কুলির লাশ পড়লে সাজা ভোগ শেষে মুচলেকা দিয়ে জনগনের বারুদ নেভালেন।

এখানেঃ বাবা, দারোগা, কুলি, লাশ, চাকু, বাবুর্চি , সুলতান, বন্দুক , বারুদ , চাকর, মুচলেকা, খাতুন ,বেগম, আলখেল্লা ইত্যাদি তুর্কি শব্দ।

৫. গুজরাটি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

গুজরাটিরা দামি খদ্দর পরে হরতাল করে।

খদ্দর এবং হরতাল গুজরাটি শব্দ।

৬. পাঞ্জাবী শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

শিখ তারকাদের কাছে পাঞ্জাবীর চাহিদা বেশি।

তারকা, পাঞ্জাবী।

৭. চীনা শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

চা, চিনি, লিচু ও লুচি চীনাদের প্রিয় খাবার।

চা, চিনি, লিচু ও লুচি চীনা শব্দ।

৮. বার্ম শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

বার্মাদের কাছে লুঙ্গি ও ফুঙ্গি জনপ্রিয় পোষাক।

লুঙ্গি, ফুঙ্গি

৯. জাপানি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

হাসনাহেনা ক্যারাটে ও জুডো শিখতে রোজ রিকসায় যায়।

এখানেঃ হাসনাহেনা, ক্যারাটে, জুডো, রিকসায়

১০. ফারসি শব্দ মনে রাখার কৌশলঃ

নিচের ছড়ার মাধ্যমে ফারসি শব্দ মনে রাখা যেতে পারে। সবগুলোই ফারসি শব্দ।

খোদা গুনাহ দোজখ নামাজ পয়গম্বর

কারখান চশমা তারিখ তোষক দফতর।

রোজা ফেরেস্তা ভেস্ত দোকান দরবার

আমদানি রফতানি জিন্দা জানোয়ার।

নালিশ বাদশাহ বান্দা দৌলাত

বেগম মেথর নমুনা দস্তখত।

১১. আরবি শব্দ মনে রখার কৌশলঃ

নিচের ছড়ার মাধ্যমে আরবি শব্দ মনে রাখা যেতে পারে।সবগুলোই আরবি শব্দ।

আল্লাহ ইসলাম ওজু গোসল কুরআন

হজ্জ যাকাত হারাম হালাল ঈমান।

মোক্তার রায় জাহান্নাম খারিজ আদালত

আলেম এলেম গায়েব কেচ্ছা কিয়ামত।

ঈদ উকিল ওজর এজলাস ইসনান

কলম কানুন নগদ বাকি লোকসান।

Post a Comment

0 Comments